কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টা ৫৫ মিনিটে উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের বেলদহ এলাকায় অভিযান চালায় ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ। কুড়িগ্রাম থানার মামলা নম্বর ১৯, তারিখ ৯ জুলাই ২০২৪, জিআর নম্বর ২৪৫/২৪ (কুড়ি.)-এর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৪(গ) উপধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি মো. শাখাওয়াত হোসেনকে (৩৬) গ্রেপ্তার করতে এ অভিযান চালানো হয়।
ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শাখাওয়াতের বাড়িতে পৌঁছে বসতঘরের ভেতর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তিনি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গ্রেপ্তার শাখাওয়াতকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর বাবা আব্দুস ছামাদের (৬৫) হুকুমে অন্য আসামিরা ও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তাঁরা পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করে সরকারি কাজে বাধা দেন এবং গ্রেপ্তার শাখাওয়াতকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় শাখাওয়াত হোসেন, তাঁর বাবা আব্দুস ছামাদ (৬৫) ও ভাই শাহাদাৎ হোসেনকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার অন্য নামীয় আসামিরা হলেন—আব্দুস ছামাদের স্ত্রী ছালেহা বেগম (৫০), শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২৮), শাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী শিউলি বেগম (৩০) এবং আতিকুর রহমান (৪৫)। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার বেলদহ এলাকায়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এসআই হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ১৬ অক্টোবর ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। মামলার এফআইআর নম্বর ১৫, জিআর নম্বর ২৭৯। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩৫৩, ১৮৬, ১৮৮, ২২৪, ২২৫, ৩৩২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।